ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদ্মার পানিতে ডুবেছে স্কুল, অনিশ্চয়তায় সাড়ে ৭০০ শিক্ষার্থী নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মোহনপুর উপজেলায় নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সিংড়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে বিপিজেএ রাজশাহী শাখার গভীর শোক রাজশাহী মহানগরীতে ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার রাজশাহী মহানগরীতে ৪ মাদকসেবী গ্রেপ্তার সাংবাদিক সাইদুর রহমানের ইন্তেকালে, রাজশাহী এডিটরস ফোরামের শোক লালপুরে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত রাজশাহী মহানগরীতে কুখ্যাত মাদক কারবারী ভগা মিলনসহ ২ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার তানোরে চাল ডিলারের বিরুদ্ধে উঙ্খাপিত অভিযোগ প্রমান হয়নি নওয়াপাড়া থেকে বানেশ্বর, হরিচাঁদ মিঠাই ভান্ডারের পঞ্চম শাখা বিএনপি নেতার মারপিটে বিধবা নারী হাসপাতালে চারঘাটে পাথরের ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৯ রাণীনগর যুবদলের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান রাণীনগরের মোজাফ্ফরকে “ভুয়া কাজী“ আখ্যায়িত করে সংবাদ সম্মেলন চাউল ব্যবসায়ীদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাওয়ের অভিযোগ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় কারাতে রেফারি কমিশনের সদস্যবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সাংবাদিক সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে শোক

পদ্মার পানিতে ডুবেছে স্কুল, অনিশ্চয়তায় সাড়ে ৭০০ শিক্ষার্থী

  • আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০৬:৪১:০৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০৬:৪১:০৩ অপরাহ্ন
পদ্মার পানিতে ডুবেছে স্কুল, অনিশ্চয়তায় সাড়ে ৭০০ শিক্ষার্থী পদ্মার পানিতে ডুবেছে স্কুল, অনিশ্চয়তায় সাড়ে ৭০০ শিক্ষার্থী
পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীর পবা ও বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে পবা উপজেলার চরখিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঘা উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় আবার বন্যাকবলিত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুর্গম চরাঞ্চলে এমনিতেই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা বেশি। এর মধ্যে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে ৭০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পবা উপজেলার পদ্মার চরে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো হলো চরখিদিরপুর, চর নবীনগর (মাজারদিয়াড়) ও চর তারানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে চরখিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিবছরই পদ্মার পানিতে সাড়ে তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিবছরই বিদ্যালয়টির পাঠদান দুই থেকে আড়াই মাস বন্ধ থাকে। অন্য দুটি বিদ্যালয়ে পানি উঠলেও সাধারণত পাঠদানে বড় ধরনের সমস্যা হয় না। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চরখিদিরপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো এলাকা পানিতে প্লাবিত। অধিকাংশ বাড়িতে তিন থেকে চার ফুট পানি উঠেছে। বিদ্যালয়টির সব শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢুকে পড়েছে। বিদ্যালয়ের চারপাশের কাঁটাতারের বেড়ার খুঁটিগুলোও পানিতে প্রায় ডুবে আছে। ফলে সেখানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বাড়ায় অনেক পরিবার চর ছেড়ে রাজশাহী শহরের দিকে চলে গেছে। এসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শহরের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করছে।

চরখিদিরপুরের বাসিন্দা সাদ্দাম আলীর দুই সন্তান ওই বিদ্যালয়ে পড়ে। তিনি বলেন, স্কুলে প্রায় চার ফুট পানি উঠেছে। শিক্ষকরা আসতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের বসারও কোনো ব্যবস্থা নেই। পানি নামতে আরও এক থেকে দেড় মাস লাগতে পারে। ছোট ছেলেমেয়েদের পানির মধ্যে স্কুলে পাঠানোও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অনেক অভিভাবক সন্তানদের লোকালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাত বলে, স্কুলে নৌকা নিয়ে যেতে হবে। স্কুল পানিতে ডুবে গেছে। এখন ক্লাস হয় না।

পবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জোবায়দা রওশন জাহান বলেন, পবা উপজেলায় পদ্মার চরে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। চরখিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় শিক্ষার্থীদের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।

পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

নয়টি বিদ্যালয়ের মধ্যে পলাশীফতেপুর, চকরাজাপুর ও পূর্বচকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। তবে পলাশীফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একই সঙ্গে ফ্লাড শেল্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে নদীভাঙনের কারণে চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিতে হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পাঠদান বন্ধ। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই। স্কুলটি ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। তাই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।

আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বন্যাকবলিত হওয়ায় সেখানে পাঠদান বন্ধ। বিদ্যালয়টিতে বন্যাদুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। একই কারণে পশ্চিমচরকালিদাসখালী, ফতেহপুর পলাশী, লক্ষ্মীনগর ও চরকালিদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ফতেহপুর পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর চৌমাদিয়া ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, পদ্মার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় স্কুল, মসজিদসহ মানুষের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক মানুষ চর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

বাঘা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মো. মামুনূর রহমান বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয় বন্যাদুর্গত মানুষের আশ্রয়ের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ নেই। যেগুলোতে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর শিক্ষার্থীদের বিকল্পভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে হরিয়ান ইউনিয়নের চরখিদিরপুরের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় প্রায় ২০০ পরিবারের ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার চর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে তিন থেকে চার ফুট পানি থাকায় স্কুলটিতেও পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী মহানগরীতে ৪ মাদকসেবী গ্রেপ্তার

রাজশাহী মহানগরীতে ৪ মাদকসেবী গ্রেপ্তার